দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কইরানের সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া তথ্যের বরাতে মার্কিন কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে শান্তিকালীন সময়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই প্রণালিটি স্বাভাবিক নৌ চলাচলের জন্য এক সপ্তাহের মধ্যে খুলে দেওয়ার একটি রূপরেখা দেয় ইরান। এর কয়েক দিন আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
ইরানের সাত দিনের প্রস্তাবে কী ছিল
ইরানের প্রস্তাবে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালুর একটি রূপরেখা দেওয়া হয়। শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানান, গত ১৭ জুনের ব্যর্থ ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে যুক্তরাষ্ট্র যে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে ইরানের জব্দ করা ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড় করা, ইরানের ওপর থেকে তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার। আরাকচি আরও বলেন, সাত দিনের ওই সময়ের মধ্যে লেবাননসহ সব ধরনের শত্রুতা বন্ধ রাখতে হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্র এসব শর্ত পূরণ করলে চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব। এরপর সপ্তম দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটি গ্রহণ করলেই প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব বলেও জানান তিনি।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো প্রকাশ্যে প্রস্তাবটির বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। যদিও দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প দ্রুতই প্রস্তাবটি নাকচ করেছেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্তগুলো পূরণ করবে কি না, তা নিয়ে ট্রাম্প সন্দিহান।
ইরানের পরমাণু অস্ত্র অর্জনের পথ পুরোপুরি বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা ট্রাম্পের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে ইরান বলছে, তাদের দেওয়া শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করবে না। ফলে দুই দেশের মধ্যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
এদিকে আল জাজিরাকে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ওয়াশিংটন ইরানের প্রস্তাবের জবাব দিতে তাড়াহুড়ো করছে না। হরমুজ প্রণালি নিয়ে নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র।
শুক্রবার রাতে ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে একটি মানচিত্রের ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে প্রণালিটিকে ট্রাম্প স্ট্রেইট নামে চিহ্নিত করা হয়। এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং এটিকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণার হুমকিও দিয়েছিলেন। তবে ইরান এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, প্রণালিটির ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
আলোচনা কি এখনো চলছে
দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে কাতার দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বার্তা আদান-প্রদান করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়েই জানিয়েছে, কূটনীতির পথ এখনো খোলা রয়েছে।
আল জাজিরাকে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, মধ্যস্থতার মাধ্যমে চলমান আলোচনা ইতিবাচক ও গঠনমূলক। শুক্রবার কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে উত্তেজনা কমানো এবং নতুন করে সংলাপ শুরুর শর্ত নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এর আগে নিউইয়র্কে মার্কিন বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফসহ কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা করেন। ট্রাম্প ওই বৈঠককে খুব ভালো বলে মন্তব্য করেছিলেন।
তবে আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ ফেলো থমাস ওয়ারিকের মতে, ওয়াশিংটনে দুই দেশ একই অবস্থানে রয়েছে কি না, তা নিয়ে ব্যাপক সংশয় রয়েছে। তিনি মনে করেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাবটি ওয়াশিংটন কোন ধরনের পূর্বশর্তে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত, তা স্পষ্ট করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
এরপর কী হতে পারে
দুই দেশের অচলাবস্থা নতুন করে সংঘাতের দিকে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ট্রাম্প তার সহযোগীদের বলেছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বোমা হামলা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ট্রাম্প বলেছিলেন, কোনো চুক্তি না হলে ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়ার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই সংঘাত শেষ করার জন্য একটি চুক্তি হতে পারে।
জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি ইন কাতারের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ আল জাজিরাকে বলেন, ট্রাম্প অনুকূল নয় এমন শর্তে যুদ্ধ শেষ করতে চান না। নভেম্বরের নির্বাচনের ফলাফল ইরান নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মাসগ্রেভের মতে, নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের ধাক্কা খেলে এবং কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে ট্রাম্প একতরফা পদক্ষেপ নিতে পারেন, যার মধ্যে আবারও সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়টি থাকতে পারে। তার মতে, এতে ইরান ট্রাম্পকে বড় ধরনের রাজনৈতিক আঘাত করতে পারে এবং এর পর পরিস্থিতির স্বল্পমেয়াদি অবনতি হলেও পরবর্তী সময়ে আলোচনার পথ তৈরি হতে পারে।
এমএস/